Skip to Content

মূলপাতা

ইলম তলবের গুরুত্ব, ফযীলত ও আদব

ইসলামি জীবনদর্শনের প্রথম ও প্রধান ভিত্তি হলো ‘ইলম’ বা জ্ঞান। মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে মানবতার মুক্তির দিশারি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবতীর্ণ প্রথম বার্তাই ছিল— اِقْرَاْ (পড়ুন)। ইসলাম ও ইলম একটি অপরটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। জ্ঞান ব্যতিরেকে ইসলামের সঠিক অনুসরণ ও ইহ-পরকালীন কল্যাণ লাভ অসম্ভব।

ইলম অর্জনের গুরুত্ব ও শ্রেণিবিভাগ

দ্বীনী ইলম শিক্ষা করা মূলত দুই ভাগে বিভক্ত:

১. ফরযে আইন: ঈমান-আকিদা, নামায-রোযা, লেনদেন ও চারিত্রিক শুদ্ধি সংক্রান্ত মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ব্যক্তিগতভাবে ফরয। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে:

طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ

(অর্থ: প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ইলম অন্বেষণ করা ফরয। —সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস: ২২৪)

২. ফরযে কেফায়া: দ্বীনের গভীর ও সূক্ষ্ম মাসায়েলসমূহ এবং কুরআন-সুন্নাহর পাণ্ডিত্য অর্জন করা সামষ্টিকভাবে ফরয। তাবেঈ উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহ.)-এর ভাষায়— "যে ব্যক্তি ইলম ছাড়া আমল করে, সে সঠিক কাজের চেয়ে নষ্টই বেশি করে।"

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইলমের মর্যাদা

আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে দুনিয়াবী কোনো সম্পদ বৃদ্ধির দুআ না শিখিয়ে শিখিয়েছেন ইলম বৃদ্ধির প্রার্থনা:

رَبِّ زِدْنِیْ عِلْمًا

(অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন। —সূরা ত্ব-হা: ১১৪)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইলমের ফযীলত বর্ণনায় বলেছেন:

জান্নাতের পথ সহজ হওয়া: > مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا، سَهّلَ اللهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنّةِ

(অর্থ: যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করবে, আল্লাহ এর বদৌলতে তার জান্নাতের পথ সহজ করে দেবেন। —সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৬৯৯)

নবীগণের উত্তরাধিকার: > إِنّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ

(অর্থ: নিশ্চয়ই আলেমগণ নবীগণের ওয়ারিশ। —সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ৩৬৪১)

ইলম অন্বেষণের আদব ও পদ্ধতি

ইলম কেবল তথ্য সংগ্রহের নাম নয়, বরং তা আল্লাহপ্রদত্ত এক ‘নূর’। এটি অর্জনের জন্য কিছু শিষ্টাচার মেনে চলা জরুরি:

নিয়ত বিশুদ্ধ করা: ইলম অর্জনের উদ্দেশ্য কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি হতে হবে।

উস্তাযের সাহচর্য: কেবল বই পড়ে সঠিক ইলম অর্জন সম্ভব নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: إِنّمَا الْعِلْمُ بِالتّعَلّمِ (ইলম তো হাসিল হয় সরাসরি শিক্ষা করার মাধ্যমে)।

লজ্জা ও অহংকার বর্জন: বিখ্যাত তাবেঈ হযরত মুজাহিদ (রাহ.) বলেন:

لاَ يَتَعَلّمُ العِلْمَ مُسْتَحْيٍ وَلاَ مُسْتَكْبِرٌ

(অর্থ: লজ্জাশীল ও অহংকারী ব্যক্তি কখনো ইলম শিখতে পারে না। —সহীহ বুখারী, ১/৩৮)

আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

  • ছাত্ররা দ্বীনের দাঈ হবে এবং অন্যকে দাঈ বানানোর চেষ্টা করবে।
  • হাফেজ, আলেম, মুফতি, ফকিহ ও সুন্নতের পূর্ণ অনুসারী হিসেবে গড়ে উঠবে।
  • আ’মা্ল ও আখলাককে সবার উপরে রাখার শিক্ষা দেওয়া হবে।
  • ফলাফলভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা, বাস্তব জীবনে আদর্শ, কর্মঠ ও সুনাগরিক তৈরি।
  • চারটি ভাষায় (বাংলা, ইংরেজি, আরবি, উর্দু) পারদর্শী করা হবে।
  • সুন্দর হাতের লেখা ও লিখন দক্ষতায় বিশেষ গুরুত্ব।
  • পাঠ্যসূচি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে আদর্শ ও ভাল মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে পারে।
  • শুধু পড়ানো নয়, বাস্তব জীবনে প্রয়োগের শিক্ষা দেওয়া হবে।
  • শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, নতুন কিছু তৈরি করার আগ্রহ ও উদ্ভাবনী মানসিকতা গড়ে তোলা।
  • একইসাথে হাফেজ, আলেম, মুফতি, ফকিহ হওয়ার পাশাপাশি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বিজ্ঞানী হওয়ার সুযোগ।
  • মুসলমানদের জন্য জ্ঞান আহরণের একটি নমুনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা।
  • শিক্ষার্থীরা জ্ঞান, বিজ্ঞান ও অর্থনীতিসহ সবক্ষেত্রে মুসলমানদের বিজয় পুনরুদ্ধারে সহযোগী হবে।

মাদরাসার বৈশিষ্ট্যসমূহ

  • পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ১–১.৫ বছরের মধ্যে নাযেরা শেষ করে হিফজ শুরু করার উপযোগী করে গড়ে তোলা।
  • স্বল্প সময়ে হিফজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি প্লে থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক শিক্ষা।
  • বিষয়ভিত্তিক দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক দ্বারা পাঠদান।
  • কোলাহলমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও আনন্দদায়ক পরিবেশে শিক্ষা প্রদান।
  • আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য তিনবেলা মানসম্মত খাবার ও আলাদা বিছানার ব্যবস্থা।
  • শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য শরিয়তসম্মত খেলাধুলার ব্যবস্থা।
  • বিশিষ্ট উলামায়ে কেরাম ও দাঈদের তত্ত্বাবধানে আদর্শ মুসলমান ও দ্বীনের দাঈ হিসেবে গড়ে তোলা। দাওয়াতের অনুশীলন, উম্মতের প্রতি দরদ ও ফিকির তৈরি।
  • জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুন্নতের যথাযথ অনুসরণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা। বাস্তব অনুশীলনের মাধ্যমে ইলম, আমল ও দাওয়াত একসাথে চর্চা করানো হয়।
  • শরিয়ত, পর্দা, সহিহ আমল ও উত্তম চরিত্র গঠনে বিশেষ গুরুত্ব।

 মাদরাসার অন্যতম বৈশিষ্ট্যসমূহ

  • সাহাবায়ে কেরাম, আকাবিরে দেওবন্দ এবং দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতকে নিজের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করার ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান এবং তাঁদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা এবং তাঁদের আদর্শকে জীবনের পথপ্রদর্শক হিসেবে অনুসরণ করা।
  • দাওয়াতের মেহনতের দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক আমলসমূহে তাশকিল অনুযায়ী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করা।
  • দৈনিক মসজিদ আবাদির মেহনতের সাথে জুড়ে থাকার প্রতি গুরুত্ব প্রদান।
  • পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহারের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা। 
  • যেকোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে দূরে থাকা। কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ না করা।